• ****** বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম ******
 
🌷রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় উৎযাপিত হবে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ)🌷
♥সাইয়্যেদ শাহ্ সূফী বেলাল নূরী আল্ সুরেশ্বরী (মাঃ জিঃ আঃ)♥
 আলহামদুলিল্লাহ্ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ১২ রবিউল আউয়াল উপলক্ষে উত্তোলিত হবে জাতীয় পতাকা। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় উদযাপিত হবে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) এই সিন্ধান্ত নেয়ার জন্য মহান সুরেশ্বর দরবার শরীফের বর্তমান গনিশনীন পীর ও মুর্শীদ ক্বিবলা হিজরী পণের শতকের মোজাদ্দেদ, আশিক্কীনে আউলিয়া পরিষদ বাংলাদেশ এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত বাংলাদেশ এর প্রাক্তন সভাপতি, মুর্শীদে বরহক্ব সাইয়্যেদ শাহ্ সূফী বেলাল নূরী আল্ সুরেশ্বরী (মাঃ জিঃ আঃ)-র পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্যকন্যা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনা ও সকল মন্ত্রীমহোদয় ও সহযোগীদের প্রাণঢালা অভিনন্দন ও মোবারকবাদ জানিয়ে বলেন, পাপ সিন্ধুতে নিমজ্জিত মানবকূলকে উদ্ধার এবং অন্ধাকাচ্ছন্ন জগতকে আলোকিত করার লক্ষে বান্দার জন্য নেয়ামত ও রহমত স্বরূপ নূরী সত্ত্বায় নূরময় রাসূল হযরত আহমদ মোজতাবা মোহাম্মদ মোস্তফা (সাঃ) ৫৭০ খ্রীঃ, ৬ষ্ঠ-৭ম শতাব্দীতে বরাবর ১২ রবিউল আউয়াল রোজঃ সোমবার সুবহে সাদেকের সময় এই ধরাধামে আগমন করেন।
 
১৯৯২সাল হতে ২০০২সাল পর্যন্ত যখন আমি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত বাংলাদেশ একক সংগঠন এর সভাপতি ছিলাম তখন সাড়া বাংলাদেশে বিভিন্ন দরবার শরীফের পীর মাশায়েখ ও বিশ্বশ্রেষ্ট আলেম ওলামাদের নিয়ে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত বাংলাদেশ এর মাধ্যমে এবং আশেক্কীনে আউলিয়া পরিষদ গঠন করে রাষ্টীয় ভাবে ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) প্রতিষ্ঠা করার লক্ষে বায়তুল মোকাররমসহ্ ঢাকার বিভিন্ন স্থানে সাংবাদ সম্মেলন, মিটিং-মিছিল এর মাধ্যমে আন্দোলনে ঝাপিয়ে পড়ি। ১২ রবিউল আউয়াল জশনে জুলুস বের করন এবং সরকারের প্রতি জোড় দাবী জানাই। এখনকার মতো তৎকালিন সময়েও কিছু তথাকথিত আলেম ওলামাগন ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) এর বিরোধীতা করে আমাদের নিয়ে ব্যঙ্গ করতেন।
 
মিলাদঃ আরবীতে জন্মের সময়কে মিলাদ (জন্ম তারিখ) বা মাওলীদ বলে। এ অর্থে মিলাদুন্নবী অর্থ হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জন্ম-জীবন বৃত্তান্ত ও শান-মান গাওয়া তথা বর্ণনা করা। এই জীবন বৃত্তান্ত যে কোনো সময় আলোচনায়-শোনায় কোনো নিষেধাজ্ঞা যদিও নেই কিন্তু ১২ রবিউল আউয়াল তারিখে হলেই কেবল একটি শ্রেনীর আলেমদের তা অসহ্য লাগে। বেদাত বেদাত গন্ধ খুঁজে বেড়ায়। এমনকি মিলাদের মাঝখানে নবীর শানে-সম্মানে দাঁড়ানো তথা কিয়াম করা যাবে না মর্মেও তাদের বিস্তর বিদাতী -বেশরিয়তী-বেদ্বীন ফর্মূলা ও ফতোয়া দেখা যায়। এসমস্ত নামধারী আলেম ওলামাদের জন্যই হযরত মাওলানা আহমদ রেজা খান লিখেছেন- ‘আমরা মিলাদুন্নবীর মাহফিল জীবন ভর করে যাবো। হে নজদীগণ! তোমরা জ্বালা-পোড়া করতে থাকো। জ্বলে মরাই তোমাদের কাজ।’ যুগে যুগে বাতিলদের শনাক্ত করার কিছু নিদর্শন ছিল। তেমনিভাবে তারই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সমাজে ও বাতিলদের চিনার নিদর্শন হল পবিত্র ‘ঈদে মিলাদুন্নবী’ (সাঃ)-এর বিরোধিতা করা।
 
পবিত্র মিলাদুন্নবীর সূচনা করেছেন স্বয়ং আল্লাহপাক রোজে আজলে সমস্ত আম্বিয়ায়ে কেরামদের নিয়ে অনুষ্ঠিত মহা সম্মেলনের মাধ্যমে। উক্ত সম্মেলনের উদ্দেশ্য ছিলো হযরত নবীপাক (সাঃ) এর শান-মান অন্যান্য সকল নবীদের (এক লক্ষ্য চব্বিশ হাজার মতান্তরে দুই লক্ষ চব্বিশ হাজার) সামনে তুলে ধরা এবং তাঁদের কাছ থেকে তাঁর প্রতি ঈমান আনয়ন ও তাঁকে সাহায্যের প্রতিশ্রুতি আদায় করা। যাহা সূরা আলে ইমরান ৮১-৮২ আয়াতে বর্ণিত আছে এই ভাবে আল্লাহতায়ালা যখন তাঁর নবীদের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি নিয়েছিলেন (তখন তিনি বলেছিলেন, এ হচ্ছে মূল) কিতাব ও জ্ঞান-বিজ্ঞান (হিকমাতপূর্ণ কুরআন), যা আমি তোমাদেরকে দান করলাম (দুনিয়ার জীবনে নবুওয়াত ও রিসালাতের দায়িত্ব পরিপালনের জন্য); অতঃপর তোমাদের (অনুসারীসহ দুনিয়াবাসীদের) কাছে যখন (আমার হাবীব শেষ নবী ও) রাসূল আসবে, যে তোমাদের কাছে রক্ষিত (পূর্ববর্তী তওরাত, যবুর, ইঞ্জিল ইত্যাদি) কিতাবসমূহের সত্যায়ন করবে, তখন তোমরা অবশ্যই তাঁর (আনীত বিধান কুরআনের) ওপর ঈমান আনবে এবং তাঁকে সাহায্য করবে; (অতঃপর) তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা কি (এই) অঙ্গীকার গ্রহণ করছো এবং আমার এ প্রতিশ্রুতির দায়িত্ব পালন করছো? তাঁরা (সকলেই) বললো, হ্যাঁ আমরা অঙ্গীকার করছি; তিনি (আল্লাহ) বললেন, তাহলে তোমরা সাক্ষী থেকো এবং আমিও তোমাদের সাথে (এ কৃত অঙ্গীকারে) সাক্ষী হয়ে রইলাম।
অতঃপর যারা তা ভঙ্গ করে (এ নবীর নবুওয়াত, রিসালাত ও কিতাব থেকে) মুখ ফিরিয়ে নেবে, তারা (তাদের অনুসারীরা) অবশ্যই বিদ্রোহী (নাফরমান, কাফের বলে গণ্য) হবে।’
 
এর মানে বর্ণিত আয়াতে কারীম দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, রোজে আজলে সকল নবী-রাসূলদের নিয়ে অনুষ্ঠিত সম্মেলনটি ছিলো একমাত্র মহানবী (সাঃ) এর শান-মানের নবুওয়াত ও রিসালাতের উদ্দেশ্যে তথা আল্লাহপাকের প্রিয় হাবীবের আবির্ভাব বা মিলাদের উপর গুরুত্ব আরোপ করে। সেদিন সিরাতুন্নবীর উপর কোনো আলোচনা হয়নি, হয়েছিলো মিলাদুন্নবীর আলোচনা। সমস্ত নবী-রাসূলগণই সে সময় মহান রাব্বুল আলামীনের দরবারে দ-ায়মান ছিলেন এবং কিয়ামও করেছিলেন। কারণ, খোদার দরবারে বসার কোনো অবকাশ নেই, আর সেই দ-ায়মান কিয়ামই নবী (সাঃ)-র শানেও প্রযোজ্য; তা এ জন্যই যে, (আদবের) আনুগত্য শুধু আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও উলিল আমরদের জন্য প্রযোজ্য (সূরা নিসাঃ ৫৯ আয়াত)। আর বেয়াদবদের আনুগত্য প্রযোজ্য ইবলিসের প্রতি কিয়ামহীন অবস্থায় বসে বসে।
‘সুতরাং মিলাদুন্নবী মাহফিল কিয়ামসহ নবীগণের সম্মিলিত সুন্নাত ও ইজমায়ে আম্বিয়া দ্বারা প্রতিষ্ঠিত।
 
মহান রাব্বুল আলামীনের পেয়ারা হাবীব, যিনি সৃষ্টি জগতের রহমত স্বরূপ প্রেরিত হয়েছেন। সেই প্রিয় নবী সাইয়্যেদিল মুরসালিন, খাতামিন নাবিয়্যিন, শাফিইল মুজনাবিন, আনিছিল গারিবিন, রাহমাতুল্লিল আলামীন, রাহাতিল আশিকীন, মুরাদিল মুশতাকীন, হযরত আহম্মদ মোজতবা মোহাম্মদ মোস্তফা (সাঃ) এর পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী। যখনই কোনো জাতি, আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীনের তরফ থেকে নিয়ামত ও রহমত লাভ করেন সেই সময়টি ঐ জাতির নিকট সর্বোচ্চ আনন্দের দিন। তাই উক্ত দিবসটি আমাদের মানব কূলের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ ও মুসলিম উম্মাহর জন্য আনন্দের দিন। মহান রাব্বুল আলামীন কালামে পাকের সূরা: আম্বিয়ার ১০৭ আয়াতে এরশাদ করেন আমি আপনাকেই শুধুমাত্র সমগ্র বিশ্ব জাহানের জন্য রহমত স্বরূপ প্রেরণ করেছি।
 
নবী (সাঃ) নিজের মিলাদ নিজেও পাঠ করেছেনঃ তাবরানী শরীফ, জুরকানী ও উপমহাদেশের সুবিখ্যাত ইসলামী পন্ডিত হযরত শায়েখ আব্দুল হক মুহাদ্দেস দেহলভী (রহঃ) রচিত ‘মাদারেজুন্নবুওয়াত’ কিতাব হতে জানা যায় যে, ‘একদা নবীপাক (সাঃ) মিম্বরে দাঁড়িয়ে সমবেত সাহাবীগণকে লক্ষ্য করে বললেন- মান আনা কালু রাসূলুল্লাহি কালা আনা মুহাম্মাদু-বনু আবদিল্লাহি-বনি আবদিল মুত্তালিব- বনি হাশিমী- বনি আবদি মুনাফি- অর্থাৎ তোমরা বলতো আমি কে? সাহাবায়ে কেরাম বললেনঃ আপনি আল্লাহর রাসূল। হুজুর (সাঃ) বললেন- আমি আব্দুল্লাহর পুত্র মুহাম্মদ, আব্দুল মুত্তালিবের নাতী, হাশেমের প্রপৌত্র এবং আবদ্-মুনাফের পুত্রের প্রপৌত্র।’
 
অর্থাৎ নবী (সাঃ) নিজের বংশ পরিচয়ের মিলাদ নিজেই পাঠ করে শুনিয়েছেন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে। এ হাদীসের বদৌলতেই ইমামগণ চার কুর্সীকে ফরজ বলে অভিহিত করছেন। আর দাঁড়িয়ে মিলাদ কিয়াম করা নবী সুন্নতের অংশ বলে পরিগণিত হয়ে রয়েছে।
খোলাফায়ে রাশেদার সময়কালের মিলাদঃ আল্লামা ইবনে হাজর হায়তামী মক্কী (রহঃ) রচিত গ্রন্থ ‘আন্ নে’মাতুল কোবরা’ এর পৃঃ ৭-১১ তে খোলাফায়ে রাশেদা কর্তৃক মিলাদ-কিয়ামের প্রমাণ বর্ণনা রয়েছে। উক্ত গ্রন্থের ৭-৮ পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে- ‘হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রাঃ) বলেছেন- যে ব্যক্তি মিলাদ শরীফ পাঠ করার জন্য এক দিরহাম পরিমাণ খরচ করবে, সে আমার বেহেশতের সাথী হবে। হযরত ওমর (রাঃ) বলেছেন- যে ব্যক্তি মিলাদুন্নবীর প্রতি সন্মান প্রদর্শন করলো, সে যেন দ্বীন ইসলামকেই জিন্দা করলো। হযরত ওসমান (রাঃ বলেছেন- যে ব্যক্তি মিলাদুন্নবী পাঠ করার জন্য এক দিরহাম পরিমাণ অর্থ ব্যয় করবে, সে যেন বদর ও হুনাইনের যুদ্ধের মতো কঠিন জিহাদে শরীক হলো। হযরত আলী (রাঃ) বলেছেন- যে ব্যক্তি মিলাদুন্নবী (সাঃ)-কে সন্মান প্রদর্শন করবে এবং মিলাদ শরীফ অনুষ্ঠানের উদ্যোগ গ্রহণ করবে- সে দুনিয়া থেকে ঈমানের সাথে বিদায় নেবে এবং বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে।’ এ বর্ণনাটি ফতোয়া হিসেবেও প্রযোজ্য। পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) প্রসে ঙ্গ আমার রচিত সিরতাল মুস্তাকিম নামক গ্রন্থে একটি অধ্যায়ই আছে তোমরা গ্রন্থটি পড়লে আরো বিস্তারিত জানতে পারবে।
 
পরিশেষে বাবাহুজুর (সৈয়দ বেলাল নূরী আল্ সুরেশ্বরী) বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) রাষ্ট্রীয় ভাবে মর্যাদা নিয়ে সত্যিকারের আশেকের রাসূলের পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর এই সিন্ধান্ধে আমরা বাংলাদেশের পীর মাশায়েখ ও আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের অনুসারীগণের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তাঁর দীর্ঘায়ূ কামনা করছি।
______________________________________________
___________________
 
💟 প্রকাশকঃ একমাত্র শাহ্জাদা সাইয়্যেদ শাহ্ সূফী মুক্তাদির নূরী আল্ সুরেশ্বরী💟
 
লেখক গবেষক, ইসলামিক চিন্তাবিদ, গবেষনারত আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় আলীগড়, ভারত।
 
সৌজন্যেঃ সুরেশ্বরীয়া বেলালীয়া প্রকাশনী।